
বিষয়টি কী ও কেন তাৎক্ষণিক
নাস্তিক্যবাদ ও সংশয়বাদ আজ আর শুধু বইয়ের দর্শন নয় — সোশ্যাল মিডিয়ার আধা-শিক্ষিত বক্তাদের মুখে মুমিন তরুণদের কানে পৌঁছে যায়। মাদরাসার হেফাজতে থাকা ছাত্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক — কেউই এই সংশয়ের ঢেউ থেকে বাইরে নয়। ইনস্টিটিউটের গবেষণা অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদের বিস্তারের পেছনে দার্শনিক যুক্তির চেয়ে সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক কারণই বেশি কাজ করে — আর তাই জবাবও হতে হবে গবেষণালব্ধ ও সহানুভূতিশীল।
ফিতরত: অন্তরের ভেতরের সাক্ষী
প্রতিটি মানুষের ভেতরে স্রষ্টার সন্ধানের একটি জন্মগত প্রবণতা (ফিতরত) রয়েছে। বিপদের রাতে অন্তর স্বতঃস্ফূর্তভাবে যাঁর কাছে কাতর হয়, প্রকৃতির বিশালতা দেখে যে মুগ্ধতা জাগে, তা কোনো শিক্ষিত যুক্তির ফসল নয় — আল্লাহ নিজেই তা মানুষের সত্তায় ঢেলে দিয়েছেন। ধর্মবোধ মানব সভ্যতার সর্বজনীন বাস্তবতা — এ সত্য এমনকি নাস্তিক নর-নারীবাদী চিন্তকদেরও স্বীকার করতে হয়েছে।
যুক্তির ময়দান: কার্য-কারণ ও সৃষ্টির অনুকূলতা
সূরা আত-তূরের জিজ্ঞাসা আজও নাস্তিক্যবাদের কেন্দ্রীয় দুর্বলতায় আঘাত করে: "তারা কি সৃষ্টিবিহীন সৃষ্ট হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" (৫২:৩৫)। মহাবিশ্বের সূচনা ব্যাখ্যা করতে হলে একজন অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন স্রষ্টার অস্তিত্ব অনিবার্য। আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত 'ফাইন-টিউনিং' — পানির অণু থেকে মহাজাগতিক ধ্রুবক পর্যন্ত জীবনের জন্য অবিশ্বাস্য অনুকূলতা — এই সত্যেরই নতুন ভাষা। সৃষ্টিহীন সৃষ্টি আর নিজের স্রষ্টা নিজে — দুটোই যুক্তিবিবর্জিত।
ইনস্টিটিউটের জবাব-পদ্ধতি
আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই ফিতনার মোকাবিলায় তিনটি পথে কাজ করছে — (১) প্রতিটি প্রধান নাস্তিক আপত্তির ওপর লিখিত আর্টিকেল ও রেফারেন্সসহ পিডিএফ পেপার, (২) গবেষণা বোর্ডের উস্তাযদের মুখে সংক্ষিপ্ত ভিডিও জবাব, এবং (৩) সংশয়ে ভোগা পাঠকের জন্য প্রতিটি আর্টিকেলের নিচে কাউন্টার-প্রশ্ন জমার সুযোগ — কারণ সংশয় লুকানোর নয়, নিরসনের।
Share this article
About the author
উস্তায জুনায়েদ আল আসজাদ
Ustadh
A member of the institute's research faculty, writing regularly on contemporary intellectual challenges and evidenced responses.