
আপত্তির জন্মভূমি
'ইসলাম নারীর অধিকার হরণ করে' — এই অভিযোগের বেশিরভাগই প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন পাঠের ফসল। ইসলাম-পূর্ব যুগে নারীর অবস্থা ছিল করুণ: কন্যাসন্তানকে জীবিত পুঁতে ফেলা হতো, উত্তরাধিকার ছিল কল্পনাতীত, স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী নিজেই 'সম্পত্তিতে' পরিণত হতো। ইসলামই প্রথম দিল নারীকে স্বতন্ত্র আইনি সত্তা, সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সম্মতিভিত্তিক বিবাহের স্বীকৃতি।
ন্যায্য দাবি ও চরম পন্থার সীমারেখা
নারীবাদের কিছু দাবি ন্যায্য ছিল — ভোটাধিকার, শিক্ষা, মর্যাদা — যা ইসলাম আগমনের প্রথম দিন থেকেই নীতিগতভাবে দিয়েছে। কিন্তু চরম পন্থী ধারা এখন নারীত্বকেই অস্বীকার করতে বসেছে: মাতৃত্বকে 'বোঝা', পর্দাকে 'কারাবরণ', আর নারী-পুরুষের ভূমিকার পার্থক্যহীনতাকে 'মুক্তি' বলা হচ্ছে। উত্তরাধিকারে 'অর্ধেক' প্রাপ্তির অভিযোগের জবাবে মনে রাখতে হবে — পুরুষের ওপর পরিবারের ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক, নারীর ওপর নয়; ফলে দুই পক্ষের নিট অধিকার কার্যত সমান।
প্রকৃত মুক্তির পথ
ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর মুক্তি পুরুষের অনুকরণে নয় — মর্যাদার সঙ্গে নিজ পরিচয়ে বেঁচে ওঠা। কুরআন-সুন্নাহ নারীর জন্য যে সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকারের ব্যবস্থা করেছে, তার সঙ্গে তুলনীয় কোনো মতাদর্শ ইতিহাসে আসেনি। আয়েশা (রা.)-এর মতো নারী ছিলেন হাদীস-বর্ণনার সর্বোচ্চ সূত্র — এটাই ইসলামের নারী-ভাবমূর্তির প্রকৃত চিত্র।
ইনস্টিটিউটের জবাব-কৌশল
'ইসলামে নারীর অধিকার ও নারীবাদী ফেতনা' আমাদের অগ্রাধিকার গবেষণা-খাত। উত্তরাধিকার, সাক্ষ্য, হিজাবের মতো সবচেয়ে বেশি-আলোচিত আপত্তিগুলোর প্রসঙ্গ, যুক্তি ও প্রামাণ্য জবাব একত্রিত হচ্ছে আর্টিকেল, ভিডিও ও পিডিএফ ফরম্যাটে — সঙ্গে কাউন্টার-প্রশ্ন জমানোর সুযোগ।
Share this article
About the author
মুশফিকুর রহমান মিনার
Ustadh
A member of the institute's research faculty, writing regularly on contemporary intellectual challenges and evidenced responses.