
সংশয় একটি মানবিক অবস্থা
প্রথমেই স্বীকার করি — সংশয় পাপ নয়, এটি মানুষের চিন্তাশীল মনের স্বাভাবিক ধর্ম। ইসলামের ইতিহাসে সংশয় দূর করার জন্য বিশেষ জ্ঞানশাখা (ইলমুল কালাম, উসুলুদ্দীন) গড়ে উঠেছে। সমস্যা হলো সংশয় নিয়ে না, সংশয়ের সমাধান না খুঁজে হাল ছেড়ে দেওয়া নিয়ে।
নাস্তিক যুক্তির মূল স্রোত
১. বিজ্ঞান সব ব্যাখ্যা করে — কিন্তু 'কীভাবে কাজ করে' ব্যাখ্যা করলেই 'কেন অস্তিত্বে এল' উত্তর হয় না। কার্যকারণের সীমাহীন ধারা নিজেই একটি অসাধারণ অনুকূল সত্য। ২. দুঃখকষ্টের সমস্যা — সীমিত দৃষ্টিতে মনে হয় অন্যায় হচ্ছে; অথচ অসীম জ্ঞানের আলোকে প্রতিটি পরীক্ষার পেছনে হিকমত থাকতে পারে। ৩. ধর্মের নামে সংঘাত — মানুষের ভুল দিয়ে সত্য মতবাদকে বিচার করা যায় না; ভুল চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে না।
কুরআনের পদ্ধতি
সূরা আত-তূরে মহান আল্লাহ জিজ্ঞাসা করেন: "তারা কি সৃষ্টিবিহীন সৃষ্ট হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" (৫২:৩৫) — এই একটি আয়াত নাস্তিক্যবাদের দার্শনিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। সৃষ্টির অনুকূলতা (Fine-Tuning) আধুনিক বিজ্ঞানই এখন স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে শক্তিশালী সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তরুণদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
- সংশয়কে লুকাবেন না — জ্ঞানী মুরব্বী ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের কাছে নিয়ে যান।
- সোশ্যাল মিডিয়ার আধা-শিক্ষিত 'নাস্তিক গুরুদের' কাছে নয়, মৌলিক উৎস থেকে শিখুন।
- ইবাদত ছেড়ে দেবেন না; অন্তরের যোগাযোগ বজায় রাখুন — যুক্তি মিলবে অন্তরের প্রশান্তিতে।
উপসংহার
নাস্তিক্যবাদ নতুন কিছু নয়; প্রতিটি যুগে এসেছে এবং প্রতিটি যুগে প্রামাণ্য জবাব পেয়েছে। সংশয় থেকে উত্তরণের পথ আছে — জ্ঞান, চিন্তা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সমন্বয়ে।
Share this article
About the author
উস্তায জুনায়েদ আল আসজাদ
Ustadh
A member of the institute's research faculty, writing regularly on contemporary intellectual challenges and evidenced responses.


