
'সংঘাতের ধারণা' কোথা থেকে এল
'বিজ্ঞান এগিয়েছে, ধর্ম পিছিয়েছে — দুটি চিরশত্রু' — এই যে জনপ্রিয় গল্প, তা মূলত ঊনবিংশ শতকের দুই পশ্চিমা লেখকের হাতে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মিথ। বাস্তবে মুসলিম সভ্যতায় জ্ঞানচর্চার ইতিহাস সংঘাতের নয় — কুরআনের চিন্তার আহ্বানে জন্ম নেওয়া মসজিদ-কেন্দ্রিক মাদরাসাগুলোই ছিল বিশ্বের প্রথম গবেষণা-বিশ্ববিদ্যালয়।
বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানবাদের পার্থক্য
বিজ্ঞান একটি পদ্ধতি — পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য প্রমাণে প্রাকৃতিক জগতের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান। আর বিজ্ঞানবাদ (Scientism) একটি দর্শন — যার দাবি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই জ্ঞানের একমাত্র উৎস। সমস্যা হলো, এই দাবিটি নিজেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণযোগ্য নয়; অর্থাৎ বিজ্ঞানবাদ নিজের মানদণ্ডেই অচল। নৈতিক সত্য, সৌন্দর্যবোধ, চেতনার রহস্য — জীবনের এসব স্তর পরীক্ষাগারের যন্ত্রে ধরা দেয় না।
মুসলিম অভিজ্ঞতা: সমন্বয়ের সভ্যতা
ইসলাম জ্ঞানের উৎস নিয়ে স্পষ্ট: প্রামাণ্য ওহী ও যুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ — দুটোই সত্য, কারণ স্রষ্টা এক। ইবনে সিনা, আল-বেরুনী, ইবনুল হাইসামদের হাতে চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আলোকবিজ্ঞান যেভাবে অগ্রসর হলো, তার পেছনে ছিল কুরআন-আয়াত ও প্রকৃতি-আয়াতের এই দ্বৈত পাঠ। বিজ্ঞান মহাবিশ্বের বিধান আবিষ্কার করে — মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে নয়; আর সেই আবিষ্কারও এক ধরনের সৃষ্টিকর্ম পাঠ।
ইনস্টিটিউটের অবস্থান
আমাদের রিসার্চ মেথডোলজি বিভাগ 'ইসলাম ও বিজ্ঞানের সংঘাত' মিথটির ঐতিহাসিক ও দার্শনিক খণ্ডন নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখি করছে। প্রতিটি লেখার সঙ্গে থাকছে রেফারেন্স-তালিকা, সংক্ষিপ্ত ভিডিও জবাব এবং আপনার কাউন্টার-প্রশ্ন জমানোর সুযোগ।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
লেখক পরিচিতি
ড. মোস্তাফা মনজুর
উস্তাজ
আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে সমকালীন চিন্তার চ্যালেঞ্জ ও প্রামাণ্য জবাব নিয়ে নিয়মিত লেখেন।