
প্রাচ্যবাদ কী ও কোথা থেকে এল
প্রাচ্যবাদ (Orientalism) হলো পাশ্চাত্য গবেষকদের প্রাচ্য — বিশেষত ইসলাম — অধ্যয়নের ধারা। এডওয়ার্ড সাইদের বিখ্যাত গবেষণা প্রমাণ করেছে, এই জ্ঞানচর্চার পেছনে ঔপনিবেশিক ক্ষমতার স্বার্থ কাজ করেছে: যে সভ্যতাকে শাসন করতে হবে, তাকে আগে 'পশ্চাৎপদ' প্রমাণ করা দরকার। ফলে ইসলাম-চর্চার সবচেয়ে বড় আক্রমণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে কুরআন-হাদীসের প্রামাণ্যতা।
আপত্তির পদ্ধতি: অনুমানের সাম্রাজ্য
গোল্ডজিহার-শাখ্ত ধারার মূল দাবি — হাদীস নবী ﷺ-এর যুগের নয়, পরবর্তী রাজনৈতিক-সামাজিক সংঘাতের ফসল। অথচ এই দাবির ভিত্তি মূলত সাহিত্যতত্ত্ব ও অনুমান; মুসলিম ইসনাদ-পরীক্ষার বিকল্প কোনো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তারা দাঁড় করাতে পারেননি। নিজেদের প্রাচীন দলিল তারা অনুমানে মেনে নেন, আর মুসলিম উৎসে অযৌক্তিক সন্দেহ করেন — দ্বিমুখী মানদণ্ড এখানে স্পষ্ট।
মুস্তাদরাক জবাব
মুস্তাফা আল-আজমীর 'Studies in Early Hadith Literature' দেখিয়ে দিয়েছে, প্রাচ্যবিদ অনুমানের জবাব প্রামাণ্য দলিল দিয়ে দেওয়া সম্ভব। সানার পাণ্ডুলিপির মতো আবিষ্কার হাদীস-সংকলনের প্রাচীনত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্বে একমাত্র মুসলিম সভ্যতায়ই প্রতিটি বর্ণনার সূত্র-শৃঙ্খল — বর্ণনাকারীর নাম, জীবনী, নির্ভরযোগ্যতা, সাক্ষাৎ-ইতিহাস পর্যন্ত — লিপিবদ্ধ হয়ে রক্ষিত।
ইনস্টিটিউটের করণীয়
'প্রাচ্যবিদদের ইসলাম চর্চা ও পশ্চিমা আগ্রাসন' আমাদের গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র। প্রতিটি বড় আপত্তির শ্রেণিবিন্যাস, প্রামাণ্য জবাব ও পদ্ধতিগত ত্রুটি নিরূপণ সংরক্ষিত হচ্ছে আর্টিকেল, ভিডিও ও পিডিএফ — তিন ফরম্যাটে; সঙ্গে পাঠকের কাউন্টার-প্রশ্ন জমানোর সুযোগ।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
লেখক পরিচিতি
মাওলানা আবু রাফআন সিরাজ
উস্তাজ
আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে সমকালীন চিন্তার চ্যালেঞ্জ ও প্রামাণ্য জবাব নিয়ে নিয়মিত লেখেন।