
ভূমিকা
আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের অসাধারণ সাফল্য মানুষের মনে একটি ভ্রান্ত ধারণা জন্ম দিয়েছে যে, বিজ্ঞানই জ্ঞানের একমাত্র পথ। এই দর্শনের নাম সায়েন্টিজম (Scientism)। কিন্তু প্রকৃত বিজ্ঞান ও সায়েন্টিজমের মধ্যে রয়েছে গভীর পার্থক্য।
বিজ্ঞান কী?
বিজ্ঞান হলো একটি পদ্ধতি — পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক জগতের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান। বিজ্ঞান ক্রমাগত সংশোধনযোগ্য; নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞান থেকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব পর্যন্ত এর ইতিহাস এ কথারই সাক্ষ্য।
সায়েন্টিজমের আত্ম-বিরোধ
সায়েন্টিজমের মূল দাবি — "শুধু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণযোগ্য বিষয়গুলোই জ্ঞান"। কিন্তু এই দাবিটি নিজেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণযোগ্য নয়! এটি একটি দার্শনিক পূর্বধারণা মাত্র। যে নীতি নিজেকেই প্রমাণ করতে পারে না, তা কীভাবে জ্ঞানের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে?
বিজ্ঞানের সীমারেখা
- নৈতিক সত্য: বিজ্ঞান বলতে পারে কীভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়, কিন্তু বলতে পারে না তা নিক্ষেপ করা উচিত কি না।
- সৌন্দর্য ও অর্থ: একটি কবিতা কেন মন ছুঁয়ে যায়, বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে তার মাপ নেই।
- চেতনা ও অভিজ্ঞতা: মানুষের আত্মগত অভিজ্ঞতা কোয়ান্টাম সমীকরণে ধরা পড়ে না।
ইসলামী জ্ঞানতত্ত্বের অবস্থান
ইসলাম জ্ঞানের উৎসকে দুইভাগে ভাগ করে — প্রামাণ্য ওহী (ওয়াহী সম্মত) এবং যুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ। কুরআন বারবার মানুষকে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার আহ্বান জানিয়েছে; অথচ জ্ঞানের সীমাকেও স্বীকার করতে শিখিয়েছে। ফলে মুসলিম সভ্যতায় বিজ্ঞানচর্চা ও ঈমান কখনো পরস্পরবিরোধী হয়নি।
উপসংহার
সায়েন্টিজমকে চ্যালেঞ্জ করা মানে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা নয় — বরং বিজ্ঞানকে তার যথার্থ স্থানে বসিয়ে দেওয়া। যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সর্বোচ্চ জ্ঞানের মালিক; আর মহাবিশ্বের বিধিগুলো আবিষ্কার করা মানে তাঁর সৃষ্টিকর্মের নিদর্শন পাঠ করা।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
লেখক পরিচিতি
ড. মোস্তাফা মনজুর
উস্তাজ
আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে সমকালীন চিন্তার চ্যালেঞ্জ ও প্রামাণ্য জবাব নিয়ে নিয়মিত লেখেন।


