
সেকুলারিজমের জন্মকথা
মধ্যযুগীয় ইউরোপে গির্জা ও রাষ্ট্রের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সেকুলারিজমের জন্ম। ইউরোপের অভিজ্ঞতায় 'ধর্ম' মানেই ছিল গির্জার কর্তৃত্ব, ধর্মযুদ্ধ ও অন্ধকার যুগ। তাই তারা জীবনের সব ক্ষেত্র থেকে ধর্মকে সরিয়ে দেওয়াকে 'মুক্তি' ভাবল। কিন্তু ইসলামের অভিজ্ঞতা তা নয়।
ইসলামে ধর্ম ও জীবনের সম্পর্ক
ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত আকীদার নাম নয় — এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। ইবাদত থেকে লেনদেন, পারিবারিক জীবন থেকে রাষ্ট্রপরিচালনা — সর্বত্র ওহীর দিকনির্দেশনা রয়েছে। নবী করীম ﷺ মদিনায় যে সমাজ গড়েছিলেন, সেখানে মসজিদ ছিল একাধারে ইবাদতালয়, শিক্ষাকেন্দ্র ও সমাজ-সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু।
সেকুলারিজমের দার্শনিক দুর্বলতা
১. মূল্যবোধের শূন্যতা: ধর্মকে সরিয়ে দিলে চূড়ান্ত মূল্যবোধের ভিত্তি হারিয়ে যায়; ফলে 'নৈতিকতা' সংখ্যাগরিষ্ঠের রুচির বশবর্তী হয়ে যায়। ২. আপেক্ষিকতার ফাঁদ: সব সত্য আপেক্ষিক হলে 'সেকুলারিজমই শ্রেষ্ঠ' দাবিটিও আপেক্ষিক হয়ে যায় — নিজের সিদ্ধান্তেই আত্মবিরোধ। ৩. ব্যবহারিক ব্যর্থতা: ধর্ম মানুষের অন্তর থেকে মুছে ফেলা যায় না; ফলে সেকুলার রাষ্ট্রগুলোও ধর্মীয় পরিচয়ের জোয়ার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইসলামের বিকল্প: ভারসাম্য
ইসলাম না থিওক্রেসি (পুরোহিততন্ত্র), না সেকুলারিজম। শরীয়াহ মূলনীতির ঊর্ধ্বে রেখে ইসলাম মানুষকে দুনিয়ার বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা, ইজতিহাদ ও প্রযুক্তির সীমাহীন স্বাধীনতা দিয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী — মুসলিম স্পেন ও বাগদাদে ধর্ম ও বিজ্ঞান একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে।
উপসংহার
সেকুলারিজম ইউরোপের ঐতিহাসিক সংকটের সমাধান হতে পারে; কিন্তু তা সর্বজনীন সত্য নয়। মুসলিমের জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলাই প্রকৃত স্বাধীনতা।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
লেখক পরিচিতি
উস্তায আরিফ বিল্লাহ
উস্তাজ
আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে সমকালীন চিন্তার চ্যালেঞ্জ ও প্রামাণ্য জবাব নিয়ে নিয়মিত লেখেন।


